ভুমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দূর্যগ। কম বেশি সব জায়গা হয়ে থাকে। কিন্তু ভুমিকম্পের সময় ভয় পাওয়া যাবে না। ভুমিকম্প হলো সব কিছু নিমিষের মধ্যে কাপিয়ে ফেলে। যেকোনো সময় এটা হতে পারে। আমেরিকান ন্যাশনাল আর্থকোয়েক ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিবছর রেকর্ড করেন যে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভুমিকম্প হয়ে থাকেন। ৯৯ শতাংশ ভুমিকম্প মানুষ বুঝতে পারেনা যা অতি ক্ষুদ্র হয়ে থাকে এবং বাকি ১ শতাংশ খুব ভয়াবহ হয়ে যাকে। যা খুব ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। খুব শক্তিশালি রূপ ধারণ করে। ফলে নানা জায়গা অনেক ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব থেকে বেশি ভুমিকম্প হয়ে থাকে জাপানে। জাপানে সব থেকে বেশি হয়। যার ফলে জাপানে বিল্ডিং বানানো নিষেধ করা হয়েছে। বেশি ভুমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয় সেই জন্য জাপানে বিল্ডিং বাসা বানানো নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে শুধু কাঠের তৈরি বাসা। ভুমিকম্পের সময় বেশ কিছু নিয়ম মানলে ক্ষতি থেকে বাঁচা যেতে পারেঃ ভুমিকম্প অবস্থায় বিছানায় থাকলে মাথার উপর বালিশ নিয়ে শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। যেমন টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত আসবাবপত্র। ভুমিকম্প বুঝতে পারলে আতংকিত হওয়া যাবে না। বরং নিজেকে শক্ত হতে হবে। আশেপাশের সবাইকে বোঝাতে হবে। রান্না করার সময় যদি ভুমিকম্প বুঝতে পারেন তাহলে গ্যাস বন্ধ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেননা তখন ঘরের ক্ষতি হলে গ্যাস ফেটে অনেক ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই বাহিরে বেরিয়ে আসতে হবে। যদি ঘরের বাহিরে থাকেন তাহলে গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে। কারন ভুমিকম্পের ফলে সেই জিনিস গুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তাই নিজেকে সাবধানে রাখতে হবে। স্কুল কলেজে থাকাকালীন যদি ভুমিকম্প বুঝতে পারেন তাহলে মাথার উপর ব্যাগ নিয়ে বেন্সের নিচে বা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। যাতে উপর থেকে ভেঙে পড়লে মাথায় আঘাত না পেতে হয়। তাই শক্ত জিনিসের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। যদি দুর্ঘটনা হয়ে ভাঙা দেওয়ালের মধ্যে আটকা পড়ে যান তাহলে নড়াচড়া করা যাবে না। মুখে কাপড় দিয়ে রাখতে হবে যাতে মুখে বা শ্বাসনালিতে ধুলো-বালি না যায়। বেশি নড়াচড়া করলে বেশি দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই চুপ করে থাকতে হবে যতক্ষণ না সাহায্যের জন্য কেউ না আসে। হাসপাতাল, অফিস, সিনেমা হল, মার্কেট বা ফ্যাক্টরিতে থাকেন তাহলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় না করে মাথার উপর হাত দিয়ে বসে থাকতে হবে। আশেপাশে শক্ত টেবিল বা আসবাবপত্র থাকলে তার নিচে আশ্রয় নিতে হবে। যাতে কিছু ভেঙে পড়লে মাথায় কোনো আঘাত না লাগে। বহুতলা ভবনেন উপরে থাকলে ঝাকুনি না কমা পর্যন্ত সিড়ি বা লিফ্ট ব্যবহার করা যাবে না। ঝাঁকুনি কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কমে গেলে তখন ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারবেন। ঝাকুনি অবস্থায় নিচে আসতে চাইলে বেশি ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। একবার কম্পন হওয়ার পর আবারো কম্পন হতে পারে। তাই নিজের সুযোগ সুবিধা বুঝে খোলা স্থানে চলে যেতে হবে। যেখানে গাছপালা বা অন্যান্য বড় বিল্ডিং না থাকে। গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ছাড়া দূরে অবস্থান করতে হবে যাতে ভেঙে গাড়ির উপর না পড়ে। ফাকা স্থানে গাড়ি পার্ক করতে হবে। তাহলে কোনো আঘাত ঘটবে না। ভুমিকম্পের কম্পন কমে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফাকা স্থানে চলে যেতে হবে। বা খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে। তাহলে মাথার উপর কোনো কিছু পড়বে না। ভুমিকম্প ভয়ের কিছু না। কিভাবে আশ্রয় পাওয়া যাবে বা কিভাবে কি করলে নিরাপদ থাকা যাবে সেগুলো জানতে হবে এবং আশেপাশের সবাইকে জানাতে বা শেখাতে হবে। ভুমিকম্প যেকোনো সময় ঘটতে পারে যেকোনো স্থানে। তাই সবাইকে সব সময় সেফটি নিয়ে চলতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post